Tuesday, January 20, 2026
More

    সর্বশেষ

    আইফোনের ‘ক্যামেরা কন্ট্রোল’ বাটনের লুকানো যত ফিচার

    নতুন আইফোন মানেই শুধু শক্তিশালী প্রসেসর কিংবা ঝকঝকে নকশা নয়—অ্যাপল ধীরে ধীরে ব্যবহারকারীর অভ্যাস বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে ছোট ছোট হার্ডওয়্যার পরিবর্তনের মাধ্যমে। তেমনই একটি সংযোজন হলো ক্যামেরা কন্ট্রোল। অ্যাপল একে ‘বাটন’ বলতে নারাজ, কিন্তু ব্যবহারকারীর কাছে এটি কার্যত একটি নতুন বাটনই।

    আইফোন ১৬ ও আইফোন ১৬ প্রো সিরিজে প্রথম এই ক্যামেরা কন্ট্রোল যুক্ত হওয়ার পর অনেকেরই প্রত্যাশা ছিল, এটি হবে ডিএসএলআর বা মিররলেস ক্যামেরার মতো একটি আধা-চাপ ও পূর্ণ-চাপযুক্ত শাটার বাটন। বাস্তবে তা হয়নি। তবে তাই বলে এই কন্ট্রোল অপ্রয়োজনীয়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও ঠিক নয়।

    বরং একটু সময় নিয়ে সেটিংস ঘাঁটলে দেখা যাবে, এই ক্যামেরা কন্ট্রোল বাটন দিয়েই ক্যামেরার বাইরেও অনেক কাজ সেরে ফেলা সম্ভব।

    বর্তমানে আইফোন ১৬ই বাদে প্রায় সব নতুন আইফোনেই এই ক্যামেরা কন্ট্রোল রয়েছে—আইফোন ১৭, এমনকি আইফোন এয়ারেও। তবু বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ ব্যবহারকারী এটি হয় ভুলে যান, নয়তো ভুল করে চাপা পড়ে যাওয়ার সময়ই শুধু বাটনটির অস্তিত্ব টের পান।

    ক্যামেরা কন্ট্রোল: কোথায় পাবেন সেটিংস

    অ্যাপলের একটি চিরাচরিত অভ্যাস হলো—কোনো অ্যাপের সেটিংস সেই অ্যাপের ভেতরে না রেখে পুরো সেটিংস অ্যাপে লুকিয়ে রাখা। ক্যামেরা কন্ট্রোলও এর ব্যতিক্রম নয়।

    আইফোনের Settings অ্যাপে ঢুকে নিচে স্ক্রল করলে পাওয়া যাবে Camera অপশন। সেখানে ঢুকলেই (বর্তমান আইওএস ২৬.২ অনুযায়ী) একদম ওপরে দেখা যাবে Camera Control।

    এখান থেকেই নির্ধারণ করা যায়, ক্যামেরা কন্ট্রোল চাপলে আসলে কোন অ্যাপ চালু হবে।

    ইনস্টাগ্রামসহ অন্য ক্যামেরা অ্যাপ চালু করুন

    অনেকেই জানেন না, ক্যামেরা কন্ট্রোল চাপলে শুধু অ্যাপলের ডিফল্ট ক্যামেরা অ্যাপই খুলতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

    চাইলেই এটি দিয়ে সরাসরি কিউআর কোড স্ক্যানার, কিংবা তৃতীয় পক্ষের কোনো অ্যাপ চালু করা যায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ইনস্টাগ্রাম। ছবি তোলাই যার জন্মপরিচয়, সেই ইনস্টাগ্রামকে চাইলে ক্যামেরা কন্ট্রোলের সঙ্গে যুক্ত করা যায়।

    শর্ত একটাই—অ্যাপটিকে আগে ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি দিতে হবে। সেটি না দিয়ে থাকলে Settings > Apps > Instagram মেনু থেকে অনুমতি দেওয়া যাবে।

    ম্যাগনিফায়ার: চোখের চশমার বিকল্প

    ছোট অক্ষরের মেনু, ওষুধের লেবেল কিংবা কাগজে লেখা ক্ষুদ্র কোনো তথ্য—এসব পড়তে অনেকেরই সমস্যা হয়। সব সময় চোখের চশমা সঙ্গে রাখা সম্ভব নয়। ঠিক এখানেই কাজে আসে আইফোনের Magnifier অ্যাপ।

    এই ম্যাগনিফায়ার অ্যাপটিকেও ক্যামেরা কন্ট্রোল বোতামের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। এক ক্লিকেই চালু হয়ে যাবে বড় করে দেখার সুবিধা।

    শুধু বড় করে দেখাই নয়, ম্যাগনিফায়ার দিয়ে ছবি তুলে সেই লেখা অ্যাপলের রিডারে পাঠিয়ে টেক্সটে রূপান্তরও করা যায়। অন্ধকারে প্রয়োজনে ফ্ল্যাশলাইটও নিজে থেকেই চালু হয়।

    ক্যামেরা দিয়ে প্রশ্ন করুন চ্যাটজিপিটিকে

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ছবি তুলে প্রশ্ন করা এখন আর কল্পকাহিনি নয়। অ্যাপলের Visual Intelligence ফিচারটি ক্যামেরা কন্ট্রোলের সঙ্গেই যুক্ত।

    এই ফিচার ব্যবহার করতে আলাদা কোনো অ্যাপ খোলার দরকার নেই। ক্যামেরা অ্যাপ বন্ধ অবস্থায় ক্যামেরা কন্ট্রোল বাটনটি চাপ দিয়ে ধরে রাখলেই চালু হবে ভিজ্যুয়াল ইন্টেলিজেন্স।

    এটি ছবি তুলে সেটি বিশ্লেষণ করে চ্যাটজিপিটির সহায়তায় উত্তর দেয়। যদিও লাইভ ভিডিও নয়—স্থির ছবি নিয়েই কাজ করে। নির্ভুলতার দিক থেকে এখনো সীমাবদ্ধতা আছে, তবে ‘পাখিটা কোন প্রজাতির?’ বা ‘এটা কোন জিনিস?’—এ ধরনের প্রশ্নে বেশ কাজে দেয়।

    ক্যামেরা অ্যাপের ভেতরে ক্যামেরা কন্ট্রোলের জাদু

    ক্যামেরা অ্যাপ চালু থাকা অবস্থায় ক্যামেরা কন্ট্রোল শুধু ছবি তোলার বাটন নয়—এটি হয়ে ওঠে একটি মাল্টি-ফাংশন টুল।

    হালকা করে চাপ দিলে আঙুলের নিচে একটি ছোট ট্যাব ভেসে ওঠে। সেটি নিচে নামালে দেখা যায় বিভিন্ন আইকনের অনুভূমিক তালিকা।

    চাইলেই Settings > Camera > Camera Control থেকে অপ্রয়োজনীয় অপশন বন্ধ করে রাখা যায়। অনেকের মতো লেখকেরও মনে হয়েছে, ‘Depth’ অপশনটি তেমন কার্যকর নয়—তাই সেটি বন্ধ রাখাই ভালো।

    জুম করুন, কিংবা নিজের দিকেই ক্যামেরা ঘুরিয়ে নিন

    Zoom অপশন বেছে নিয়ে ক্যামেরা কন্ট্রোল বোতামে আঙুল বাম-ডানে সরালেই মসৃণভাবে জুম ইন বা আউট করা যায়।

    জুমের বদলে চাইলে সরাসরি ক্যামেরাও বদলানো যায়। Cameras অপশনে গিয়ে .৫ ওয়াইড অ্যাঙ্গেল থেকে শুরু করে ২এক্স, ৪এক্স, ৮এক্স—সবকিছুর মধ্যে দ্রুত যাতায়াত সম্ভব। ওয়াইডের পরে আরও এক ধাপ গেলে ক্যামেরা ঘুরে যায় নিজের দিকেই—সেলফির জন্য আলাদা বাটন খোঁজার দরকার নেই।

    মোড না বদলিয়েই ভিডিও রেকর্ড

    হঠাৎ কোনো মুহূর্ত ভিডিওতে ধরতে চান, কিন্তু মোড বদলানোর সময় নেই—এমন পরিস্থিতিতে ক্যামেরা কন্ট্রোল দারুণ কাজে আসে।

    ক্যামেরা অ্যাপ খোলা অবস্থায় বাটনটি চাপ দিয়ে ধরে রাখলেই ভিডিও রেকর্ড শুরু হবে। আঙুল ছাড়লেই থেমে যাবে। দ্রুত মুহূর্ত ধরার জন্য এটি বেশ কার্যকর।

    যাঁরা একাধিক ছবি একসঙ্গে তুলতে চান, তাঁদের জন্য আছে আরেকটি কৌশল। Settings > Camera মেনুতে গিয়ে ভলিউম আপ বাটনকে Burst Mode হিসেবে সেট করা যায়। ভলিউম আপ ধরে রাখলেই একের পর এক ছবি তুলবে আইফোন।

    আলো-ছায়ার খেলা: এক্সপোজার নিয়ন্ত্রণ

    ভালো ছবি মানেই শুধু ফোকাস নয়—আলো নিয়ন্ত্রণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ক্যামেরা কন্ট্রোলের Exposure অপশনটি এখানেই পার্থক্য গড়ে দেয়।

    ‘±’ চিহ্নযুক্ত এক্সপোজার অপশনে গিয়ে আঙুল বাম-ডানে সরালেই ছবি উজ্জ্বল বা গাঢ় করা যায়। অতিরিক্ত আলোতে পোড়া ছবি বাঁচানো হোক কিংবা অন্ধকার দৃশ্যে মুখ স্পষ্ট করা—এই একটি অপশনেই বদলে যেতে পারে ছবির চরিত্র।

    প্রত্যাশার শেষ নয়

    লেখকের ব্যক্তিগত প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি—একটি সত্যিকারের দুই ধাপের শাটার বাটন, যেমনটি রয়েছে ফুজিফিল্ম এক্স-টি৫ ক্যামেরায়। হয়তো ভবিষ্যতে কোনো অ্যান্ড্রয়েড নির্মাতা সেই শূন্যতা পূরণ করবে।

    ততদিন পর্যন্ত, আইফোনের এই ক্যামেরা কন্ট্রোল বাটনটিকে অবহেলা না করে একটু সময় দিয়ে চিনে নিলেই বোঝা যাবে—এটি আসলে কতটা কার্যকর হতে পারে।

    আর অ্যাপল যদি ভবিষ্যতে এতে নতুন কোনো ফিচার যোগ করে, তাহলে এই বাটনের গুরুত্ব আরও বাড়বে—সে আশা করাই যায়।

    সর্বশেষ

    পড়েছেন তো?

    Stay in touch

    To be updated with all the latest news, offers and special announcements.